Anurager chhowa serial writing see new update on 21 November
অনুরাগের ছোঁয়া সিরিয়ালের নতুন পর্বের যাবতীয় বিশ্লেষণ দেখুন
জয়ী এলো সোনার কাছে !
আমাদের জনপ্রিয় সিরিয়াল অনুরাগের ছোঁয়া আমাদের একের পর এক ভালোবাসা দিয়েই যাচ্ছে। বন্ধুরা বছরের পর বছর ধরে জনপ্রিয় এই সিররিয়াল কিন্তু আমাদের মনের ভেতর জায়গা করে নিয়েছে। গায়ের রং এর ভেদাভেদের পার্থক্যে পারি দিয়ে সবার মন জয় করলো দীপা,তার দুই মেয়ের নিয়ে সুন্দর সংসার হওয়ার কথা। ভাগ্যের নির্মম পরিহাস! সংসারের জন্য সর্বোচ করলেও জীবন কখনো কখনো আমাদের অনেক দূরে নিয়ে ফেলে দেয়। আলাদা হয়ে যায় দীপা ও তার সোনা তো মাকে সহ্য করতেই পারে না। রুপার দৃষ্টি হারিয়ে যাওয়া সব যেন এক ঘুর্ণিঝড়ের চক্র যে চক্রে দীপা ভাসছে তার কোন কূল কিনারা নেই। কখনো কখনো জীবন খুবই কঠিন হয়ে যায়। আর সেই কাঠিন্যের পেছনে আমরা কুল হারিয়ে সীমানা পেরিয়ে যাই।এতে করে জীবন কখনো সুখে ভাসায় কখনো দুঃখে। বার বার নিজের পরিবারের কাছে নিজেকে বলি দিতে হয়েছে দীপার,কখনো নিজের স্বামী কখনো শাশুড়ী কখনো সন্তান। জীবনে এমন এক পর্যায়ে দীপা আছে যেখানে তার মন দিয়ে সংসার সামলানোর কথা সেখানে সে সংসারের রোষের মুখে চলছে। সকল বাজে ঘটনার জন্য তাঁকই দায়ী করা হয়। বন্ধুরা আমরা তো দেখতে পেলাম রুপা চিনে ফেলেছে সবাইকে। চিনে ফেললেও সে কাউকে দেখতে পারছে না, যখন সে জানতে পারে তার মা আর নেই তখন সে পুরো একা হয়ে যায়।তাকে তো অনেক আগেই সবাই ভুলে গেছে।
" সময় কখনো কখনো আমাদের নিয়েমের বাহিরে চলে যেটার জন্য আমাদের জীবনে বাকা গল্পের মোড় নেয় " এখন মায়ের না থাকাটা তাকে সব থেকে বেশি কষ্ট দেয়। মায়ের এভাবে চলে যাওয়া তার পক্ষে মানা সম্ভব নয়। এর উপর যখন সে জানতে পারে সোনা নিজের মায়ের কথা শুনতে পায় না। অলিকে রুপা মানতে পারছে না কেন সে মাকে দেখতে পায় না মায়ের কথা শুনলে কেন ও এতো উত্তেজিত হয়ে পরে? সোনার সাথে রুপার কথ কাটাকাটি হলে রুপা সেখান থেকে চলে আসে, সোনার আসলে জয়ীর সাথে এমন আচরণ করা উচিত নয় তাই সে জয়ীকে সরি বলার জন্য তার বাড়িতে আসে কিন্তু জয়ী এতোটাই কষ্ট পায় যে সে অলিকে বাড়ি থেকে চলে যেতে বলে, অলি সেখান থেকে কষ্ট পেয়ে চলে আসে। ছোট বেলার ঘটনার পর সোনা সবসময় প্যানিক অ্যাটাক করে সে জন্য সে অসুস্থ হয়ে পরে। যার ফলে আজো জয়ীর বাসা থেকে এসে অলি অসুস্থ হয়ে পরে,প্রচন্ড জ্বরে ভোগতে থাকে। " নিজের মানুষদের দ্বারা অবহেলিত হলে মানুষ দূর্বল হয়ে পড়ে "
" আমরা যাকে বেশি ভালোবাসি
তাকে সব রকম পরিস্থিতিতে খুজি "
সোনার বেলাতেও তার ব্যতিক্রম নয়, সোনা অসুস্থ হয়ে যায়। অসুস্থতার মাঝে সে জয়ীর কথা বলতে থাকে। তাই সূর্য আসে জয়ীকে জানাতে। জানায় তার মেয়ে খুবই অসুস্থ, ঘোরের মাঝে জয়ীর নাম নিচ্ছে। যেটা শুনে জয়ীর অবহলা করার সুযোগ নেই। সে তো ছোট থেকেই ভীতু, যখনি বিপদ দেখত তখনি সে রুপাকে ডাকত আজো তার বাহিরে নয়, তাই তো সে জয়ীকেই খুঁজছে। জয়ী আসে সোনার সাথে দেখা করতে। এসে দেখে সে খুবই অসুস্থ অলির জন্য খুবই মন খারাপ হয় অলির তার মনে অনেক প্রশ্ন কেন সে মাকে দেখতে পায় না কেন মায়ের কথা শুনতে পায় না, এসেই অলির মাথায় হাত বুলিয়ে দেয়।
জয়কে সাহায্য করলো কে ?
মুম্বাই শহরে এসে জয় পরে গেছে বড় বিপেদ, কিছু গুন্ডাদের চক্করে পরে সে ফেসে গেছে। " ইট পাথরের শহরে সবাই অভাবি কেউ খুজে আপনজন কেউ খুজে বাচার তাগিদ "
বড় শহরে থাকতে গেলে পড়াশোনার খরচ সহ অনেক খরচ পরে। কাকিয়া আস আসে জয়ের বাসায়, দীপা ও সূর্যের সম্পর্ক নিয়ে তারাও ভাবছে। সোনার এমন ব্যবহার তিনি চায়ছেন সবটা ঠিক করতে কিন্তু এতো বছরের সমস্যার কি কোন সমাধান আছে? যেখানে সূর্য অলিকে বুঝিয়েও কোন ফায়দা পায়নি সে কি করে পারবে। এই নিয়ে তর্কাতর্কি হয় অনেক। সব দোষ গিয়ে পড়ে দিপার উপর। "পৃথিবীতে এমন কিছু মানুষ আছে যারা দোষ না করেও দোষী "
জয় আসে অনেক খাবার নিয়ে উর্মি তো ভীষণ টেনশনে থাকে একে তাদের অভাব চলছে তার ওপর তাদের ওপর এসেছে পরিবারের মানুষ, সে কি করবে। এতো গুলি খাবার দেখে উর্মি জানতে চায় এতো সব সে কিভাবে করলো। জয় উর্মিকে আশ্বাস দেয় সব ঠিক হয়ে যাবে,তবুও প্রশ্ন থামে না সে বার বার জানতে চায় সে কোথা থেকে এসব পেলো তার কাছে তো টাকা নেই। জয় উর্মিকে শান্ত করে বলে তার চাকরি হয়েছে। কিন্তু এতো বড় শহরে তো সে কাউকেই চিনে না তাকে কে সাহায্য করবে। এই প্রশ্নটা জয়েরও সে ভেবে পায় না। তার এই বিপদের কথা তো দীপা আর সূর্য ছাড়া কেউ জানে না তাহলে আর কে সাহায্য করবে তাকে এমন হঠাৎ করেই? জয়ের মনে বার বার এই প্রশ্ন চলতে থাকে, তবুও সকল কষ্ট ভুলে কাকিয়া কাকাই এর সাথে যোগ দেয় কতো দিন পর পরিবারের মানুষ গুলির সাথে দেখা। এক সাথে বসে কতো দিন পর খাবে।
সোনাকে দেখতে এলো দীপা !
মা কখনো মেয়েকে ছেড়ে থাকতে পারে? কখনই না, সে যতই দূরে থাকুক পাগল হয়ে যায় মেয়ের কাছে আসতে।তাই তো দীপা যখন জানতে পারে অলি অসুস্থ হয়ে পড়েছে এক ছুটে চলে আসে অলির কাছে। দীপাকে দেখে সূর্য খুশি হয় কারন ঘুমের মাঝে অলি মাকেও খুজছিল। বিপত্তি হয় চারুর জন্য। দরজায় হাত আলগে দারায় সে। দীপাকে ঘরে ঢুকতে দেয় না কোন মতেই। এই মহুর্তে দীপাকে খুবই অসহায় লাগে। একজন মা যে কিনা তার মেয়ের কাছে যেতে পারে মা না যেতে পারর কষ্টটা একটা সন্তান হারা মাই বলতে পারে, "মায়ের অভাব তো সন্তান আর সন্তানের অভাব মা বুঝে"
চারুর উদ্দেশ্যও খারাপ নয়, কারন সোনা দীপাকে দেখলেই রাগারাগি করতে করতে থাকে, এই অসুস্থতার মাঝেও যদি সোনা বুঝতে পারে দীপা এসেছে তাহলে কিভাবে রিয়াকশন করবে সেটা কেউ জানে না যদি আরো বেশি হাইপার হয়ে যায় সে জন্য চারু মানা করে।কিন্তু দীপা তাকে শান্তনা দেয় সে তার মেয়েকে দূর থেকেই দেখবে। কোন কথা বলবে না বুঝতে দিবে না সে এসেছে। তাই তো সোনার পাশে গিয়ে বসে। সোনাকে স্পর্শ করার সাথে সাথে মা বলে উঠে। দীপার প্রতি যতোই রাগ থাকুক মা তো সেটা সোনা কি করে ভুলে মায়ের সাথে তো সেও থাকতে চায় শুধু একটু ভুল বুঝাবুঝির জন্য তাদের আজ এই অবস্থা। এমন সময় জয়ী বুঝতে পারে এই ঘরে আরো কেউ আছে। তার মায়ের গন্ধ পাওয়া যাচ্ছে, তবে চারু সামলে নিয়ে বলে এখানে কেউ নেই তারাই আছে। মাকে জয়ী খুব বুঝে তাই তো সে বুঝতে পারছে এখানে আরো কেউ আছে। কিন্তু দীপা বুঝতে দেয় না। সোনার মাথায় হাত বুলিয়ে দিতে থাকে। জয়ী বার বার জানতে চায় কে এসেছে কিন্তু কেউ তাকে বলে না। সোনা তার মায়ের ছোঁয়া পেয়ে কিছু আরাম বোধ করে তাই তো সে বলে তার কাছে কে এসেছে,মা-র মতো লাগছে,মা আসে নি তো। সোনা তো ঘুমের মাঝেও মাকে খুজে। কিছু সময় পর দীপা চলে যায়।কারন সোনা তার মায়ের জায়গায় চারুকে কল্পনা করে চারুকে বিয়ে করতে বলে। যেটা দীপাকে খুব কষ্ট দেয়। দীপা সেখান থেকে চলে যায়।
দীপা চলে যা-ও য়ার পর জয়ী জানতে চায় এই ঘরে আর কে ছিলো। তবে কেউ তাকে কিছু জানায় না তবুও অচেতন মন বার বার ভাবে কেউ তো এই ঘরে ছিলো।বন্ধুরা আমরা অসুস্থ হয়ে পরলে সর্ব প্রথম মাকেই বেচি খুজি। মা হলো এই পৃথিবীর সর্বশ্রেষ্ঠ নেয়ামত। মা ছাড়া সব সন্তানই অপূর্ণ। তেমনি অলি ও সোনাও একি শূন্যতায় ভোগছে। দুজনেই মায়ের অভাবে অভাবি। "প্রতিটি সন্তানই জানে মা করতোটা গরুত্বপূর্ন তাদের জীবনে, জীবন চলার পথে মা হলো অনবদ্য হাতিয়ার যা আমাদের ছোট্ট জীবনকে সহজ করে দেয় "