Dui shalik serial writing see new update on 27 November
আঁখিকে সাহায্য করছে দেবা!
দুই বোনের সুন্দর একটি কাহিনী নিয়ে পরিচালিত দুই শালিক। অল্প দিনের মাঝেই সবার মন জয় করে নেয়। খুবই জনপ্রিয় সিরিয়াল হয়ে গেছে যেমন সুন্দর গল্প তেমন সুন্দর জুটি দুটো। দুই বোন একি মায়ের পেটের হয়েও আলাদা কেউ কাউকে চিনে না। তুবও দুজন মানুষ কাছেই আছে। এক জন আরেক জনকে সাহায্য করছে। আখিকে বাচাতে নিজের জীবনের অংশ দিয়ে দিলো। ঝিলক শাড়ি পড়তে পারে না কোন মতে আখির কাছে শুনে পড়ে নিল। ঝিলিক শাড়ি পড়তে পারে না বলে দেবার কাছে একটা সেলাইয়ের মেশিন চাইলো। আখির এমন কথা শুনে তো দেবা সহ চার আনা অবাক। ঝিলিক করবে শেলাই।কিন্তু আখি চাইলো মেয়েরা যদি শেলাই মেসিন থেকে উৎসাহ পায় তাহলে মেয়েদের জন্যই ভালো।সে জন্য সে কাজ করতে চায়ছে। দেবা শুনে রাজি হয়ে যায় সাথে সাথে চলে যায় সেলাই মেশিন আনতে. সে ঝিলিকের জন্য সালোয়ারের মতো করে শাড়ি বানিয়ে দিবে যাতে ঝিলিকের শাড়ি পড়তে অসুবিধা না হয়।এই প্রথম আখির সব কথা কেউ শুনছে,আখি যা চাচ্ছে দেবা সেটাই হাজির করছে। দেবা নিজেও জানে না সে কেন এসব করছে।সত্যি আখি জীবনে কখনো এতো আদর পায়নি। যা সে এখন ঝিলিকের পরিবার,দেবার কাছে পেয়েছে। আখি কখনো কল্পনা করেনি তার এতো পরিাবরের সাথে দেখা হবে।
রিসিপশনের খাবার খেতে আসে কালিপদ!
আপনারা কি কখনো শুনেছেন যার সাথে আপনার বিয়ে ভেঙ্গেছে আপনি তার রিসিপশনেরই খাবার খেতে গিয়েছেন। মজার না বিষয় টা? সত্যি তাই দুই সালিক ধারাবাহিকে কলিবদর চরিত্রটাই এমন। বিয়ে না হওয়ার জন্য কালিবদকে যে নাকানি চুবানি খাওয়ালো ঝিলিক সেই ঝিলিকের কাছেই এসেছে খাবার খেতে। নিজের বোন রাইমাকে বলছে বাসি খাবার কিছু আছে কিনা। রাইমা এটা শুনে রাগে বলে তোর বিয়ে যার সাথে হওয়ার কথা ছিলো তার অন্য কারো সাথে বিয়ে হয়ে গেছে তুই এসছিস বিয়ের দাওয়াত খেতে তোর লজ্জা নেই।আমাদের সমাজে এমন কিছু মানুষ আছে যারা নিজেদের খারাপ লাগাকে কাজে লাগায় না পৃথিবীর নিয়মে যা হচ্ছে হোক এমন টাইপের।যার সাথে যার বিয়ে হবে সেটা তো উপর থেকে নির্ধারণ করা থাকে।
রহস্যের মুখে ঝিলিক!
পিআরকে আখিকে দিয়ে একটা কাগজে সই করায়,ঝিলিকের তখনি সন্দেহ লাগে যে পিআরকে তাকে কিসের কাগজে সই নিল,তাহলে কি এর মাঝে অন্য কিছু লুকিয়ে আছে। আখিকে দিয়েও কি এতো দিন কাগজে সই নিয়েছে। সামন্য কর্মচারির মেয়ের সাইন অফিসের কাগজে কেন লাগবে এটাই ভেবে পায় না ঝিলিক।পিআরকে বের হ'য়ে যাওয়ার পর ঝিলিক যায় পিআরকের ঘরে। দেখে সেখানে কিছু কাগজ পরে থাকতে,সেই কাগজ নিয়ে এক সাথে লাগানোর জন্য আঠা খুজতে থাকে। তখনি রাইমা আসে এসে দেখে আখি কিছু একটা খুজছে। কিন্তু ঝিলিক কোন রকম সেখান থেকে চলে আসে।
দুই বোনের ভালোবাসা!
আখি শাড়ি বানাচ্ছে ঝিলিকের জন্য,বোনদের ভালোবাসা বুঝি এমনই হয়, আখি ও ঝিলিক একে অপরের জন্য যা করছে দুজন দুজনের জন্য করছে।কেউ কাউকে কম ভালোবাসে না। দুজন দিজনের জন্য নিজেদের জীবন উৎসর্গ করে দিচ্ছে। বোন থাকলে মনে হয় এমনি হয়। ঝিলিকের যেন সুবিধা হয়। এর জন্য ও সুবিধা মতো নিজে৷ কষ্ট করে ওর জন্য শাড়ি বানিয়ে দিচ্ছে। ঝিলিকের অসুবিধা হচ্ছে শাড়ি পরে থাকতে, তাই সালোয়ারের মতো করে শাড়ি বানাচ্ছে আখি। দেবা এসে দেখে আখি ক্লান্ত হয়ে গেছে তাই কিছু শুকনা খাবার নিয়ে এসে আখিকে দেয়। আখির জন্য অনেক কিছু করছে। কখনো খাবার কখনো মেশিন যখন যা বলছে তাই করছে। যেটা ঝিলিক বললে কখনোই করত না। আখির স্নিগ্ধ রুপ দেবাকে ছোয়ে গেছে। দেবার খুবই ভালো লাগে আখিকে,আখি আশে পাশে থাকলে দেবা যেন অন্য রকম ফিল করে। মনে হয় আখি কতো কাছের দেবার। মা বাবা হারা মেয়েটা একটু একটু করে কারো ভালোবাসা পাচ্ছে, সারাজীবন তো অন্যের লাথি মার খেয়েই বড় হয়েছে। এখন একটু সুখ পাঁচ্ছে অন্তত কারো কথা,মার,নির্জাতন সহ্য করতে হচ্ছে না। নিজের বোনকে কাছে থেকে পেয়েও কাছে পাঁচ্ছে না,নিজেদের বাবা জেলে পড়ে আছে।সে এখনো জানে না তার মেয়েরা বেঁচে আছে কিনা মরে গেছে। তার সকল সম্পত্তি পিআরকে খাচ্ছে। জেল থেকে ফিরে এতো জট কি করে খুলবে সে নিজেও জানে না।
রাইমা আসে গৌড়বের কাছে,ঝিলিকের নামে বদনাম করতে থাকে,গৌড়বকে জানায় আখি এখনো বাড়ির কাজের লোকই আছে। গৌড়বের সাথে তার বিয়ে হলেও সে এখনো বাড়ির কাজের লোকই আছে কারন সে এখনো কাকানুনির অফিস রুম পরিষ্কার করে,জুতো পরিষ্কার করে। তাই সে তার বউ হলেও সে এখনো বাড়ির কাজের লোকই আছে। দোষটা কাকামুনি ও আখিকেই দেয়।কিন্তু এই দোষ দেওয়ার মাঝেই তাদের জন্য ভালো হবে সেটা রায়মা বুঝতে পারেনি।আমাদের জীবন কিছু শত্রু এমন ভাবে আমাদের পিছনে লেগে থাকে যে কখন তারা আমাদের অপকার করতে গিয়ে উপকার করে ফেলে,তা তারা নিজেও বুঝতে পারে না। রাইমার মতো মানুষরা আমাদের অনেক উপকার করে থাকে,যা তারা বুঝতেই পারে না।
ঝিলিকের ওপর গৌড়বের রাগ!
গৌড়ব চলে যায় ঝিলিকের কাছে,এসেই রাগারাগি করতে থাকে,কেন সে তার বাবার কাজ করে, সে তার বাবাকে পচ্ছন্দ করে না, তাই সে চায় না তার বউ এই বাড়ির কাজের লোকের মতো থাকুক,কারন সে এখন তার বাবার কথার গোলাম না, নিজেকে নিজের জায়গায় চলতে বলে।কিন্তু ঝিলিক উল্টো রাগ দেখিয়ে বলে সে যা করছে ভালোই করছে। কারন যে স্বামী তার কাছ থেকে মুক্তি চায়,যে স্বামী বউয়ের স্বকৃীতি দিতে চায় না সে স্বামি হতে চায় না। কিন্তু গৌরব বলে আমি তোমার স্বামী তুমি এই বাড়ির কারো কোন কাজ করবে না,নিজেকে এতো ছোট করো না,তুমি এই বাড়ির কাজের লোক নও। কিন্তু ঝিলিক বলে উনি আমাকে খাইয়েছে তাই উনি যা বলবে আমি তাই করব।গৌরব নিজেকে আঘাত করে সেখান থেকে চলে যায়। গৌরবের মায়ের কথা কানে বাজতে থাকে সে তার মায়ের কথায় কষ্ট পায় সে তার বাবার মতো হতে চায় না।সে তার মতো।মায়ের কথা মতোই সে এই বিয়ে করেছে।
আখি কল করে ঝিলিককে আসতে বলে, ঝিলিকের সাথেও প্রয়োজন ছিল।দুজন দেখা করে,এসে দেখে আখি তার জন্য শাড়ি নিয়ে এসেছে। এটা দেখে ঝিলিক খুব খুশি,ঝিলিক আখিকে জানায় পিআরকে কখনো তার কাছে কোন সাইন নিয়েছে কিনা।আখি বলে তার জন্ম দিনের দিন সাইন নিত। তাদের জন্ম দিনটাও এক। তারা নিজেরাও বুজতে পারে তাদের এই দেখা হওয়া এক দম মিল এটা কোন কাকতালীয় ব্যপার নয় তাই তো তাদের এতো মিল। সে আখির সব রহস্য বের করবে বলে জানায়।
বাড়িতে এসে কাকিমুনিকে বলে আমি কোর্টে গিয়েছিলাম তোমাদের নামে কেস করতে,আর বলে এসেছি তোমরা আমাকে বিষ দাও খাবার মাঝে। আর এটা টেস্ট করেও এসেছি। রাইমা ও কাকিমুনি ভয় পেয়ে যায়। ঝিলিক এতো কিছু কিভাবে করতে পারে।
এর মাঝে আমরা দেখতে পাই দেবার আর আখি বাইকে করে বাইরে বের হয়েছে।কিন্তু সেটা গৌরব দেখে ফেলে,বাসায় এসে ঝিলিককে বকতে থাকে। অন্য একটা ছেলের বাইকে উঠলে একটা ছেলের জন্য কতোটা কঠিন পরিস্থিতি হয় আর যদি সেটা হয় বউ তাহলে তো কথাই নেই। সেই জন্য গৌরব এতো রাগ করে। আমাদের রাগি হিরো যতোই বা মানুক সে কিন্তু তার বউকে মেনে নিয়েছে। কেন সে দেবার বাইকের পেছনে উঠবে।দেবা তার কে হয়। সে তার স্ত্রী হয়ে অন্য পুরুষের পেছনে কেন উঠবে, সে জন্য বাসায় এসে ঝিলিককে সে বকতে থাকে।